EDITOR
- ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ /

ভয়েস প্রতিবেদক:
বীর মুক্তিযোদ্ধা কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মাষ্টার গোলাম কাদেরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হযেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে মরহুমকে তার বাসায রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে আছরের নামাজর পর কাউয়ারখোপ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়।
জানাজার পুর্ববর্তী সমাবেশে মরহুমের স্নৃতি চারণ করে বক্তব্যে রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের
সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলম চৌধুরী,কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদ্স্য ও রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদ শামশুল আলম মন্ডল, জেলা পরিষদ সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, রামু উপজেলা ভাইস চেযারম্যান সালাহউদ্দীন, রামু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক,গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইষলাম, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হানিফ মিয়া মাস্টারের পুত্র ওসমান সরওয়ার মামুন, মরহুমের ছোট ভাই এনামুর হক, বড় ছেলে মন্জুরুল মোর্শেদ কাদেরী জোসেফ। জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা মোঃ হাসান।
জানাজায় মরহুমের সহকর্মী খুরুশকুল, কক্সবাজার, রামুর বিভিন্ন হাইস্কুলের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকগন,জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্ধসহ সর্বশ্রেনীর হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। পরে কাউয়ারখোপ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাবা-মার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় রাষ্ট্রের এই বীর সন্তানকে।
মাস্টার গোলাম কাদেরের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত:
১৯৪৪ সালের ২৩ আগষ্ট রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম কবির আহম্মেদও পেশায় শিক্ষক ছিলেন। মায়ের নাম আনজুমান আরা বেগম। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে মাস্টার গোলাম কাদের সবার বড়। তিনি রামু খিজারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সাতকানিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র লীগের প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন গোলাম কাদের। ছাত্র জীবন শেষে প্রথম গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন। পরে কক্সবাজার ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
১৯৮৬ সালে মহেশখালীর হোয়ানক উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৮৭-৯৩ সালে সদরের খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম কদম মোবারক এমওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৯৯- ২০০৪ পর্যন্ত রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকেই অবসরপ্রাপ্ত হন। তিনি সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
স্বাধীনার পরে রামুতে প্রতিষ্ঠিত বাংলা কলেজের প্রফেসর হিসাবে শিক্ষকতা করেন একারনে তিনি এলাকায় প্রফেসর হিসেবেও বেশ পরিচিত। ব্যক্তি হিসেবে তিনি খুব সাদামাটা, সহজ-সরল অমায়িক, নম্র ও ভদ্র এবং সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
ভয়েস/আআ